সুন্দর হোক শিশুর জীবন

প্রতিটি শিশুর অধিকার আছে সুন্দর ভাবে বেঁচে থাকার। আর শিশুদের এই সুন্দর পৃথিবী তৈরী করে দেওয়ার গুরুদায়িত্ত্ব রয়েছে আমাদের উপর। বাংলায় একটি কথা প্রবর্তিত আছে যে “আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষৎ” । সেই ভবিষৎ দের সুরক্ষাময় পৃথিবী উপহার দেওয়া আমাদের দায়িত্ত্ব।

শিশুদের পৃথিবী কেনো নিরাপদ রাখা লাগবে ?

শুরুতেই বলেছি , শিশুরা আগামীর ভবিষ্যৎ । তারা সঠিক ভাবে বেড়ে উঠলেই ,এগিয়ে যাবে পৃথিবী। তারা নিরাপত্তার সাথে বেড়ে উঠলে , নিরাপদ হবে পৃথিবীর প্রতিটি স্তর। কারন তারা যা দেখে বড় হবে , ঠিক তাই তারা করতে চাইবে। শিশুদের মস্তিষ্ক এতোটাই তীক্ষ্ণ যে , অল্প বয়সে তাদের স্মৃতিতে গেথে যাওয়া ঘটনা গুলো তারা বহন করতে পারে সারাজীবন। তাছাড়া আমরা যারা বর্তমান আছি , আমাদের জীবনের শেষ মুহুর্ত গুলো আরামে-আয়েশে কাটানোর জন্যে হলেও , আজকের শিশুর জীবনযাত্রার মান করতে হবে উন্নত এবং নিরাপদ ।

শিশুরা হবে দায়িত্ত্ববান

“আমাকে দেখেই শিখবে শিশুরা” এই মতবাদের উপর ভিত্তি করে যদি আমরা শিশুদের কাছে নিজেদের উপস্থাপন করি , তাহলে নিশ্চয় ভালো কিছু হবে। শিশুরা যখন বড় হয়ে , তাদের ছোটবেলার শিক্ষাটাকে কাজে লাগাবে, তখন আপনি বুঝতে পারবেন তারা কতটুকু শিখেছে। আমরা মনে রাখবো যে, আমরাও একদিন বৃদ্ধ বা বৃদ্ধা হবে , আমাদের জীবনী শক্তি একদিন নিঃশেষ হয়ে যাবে , আমরা হারাবো আমাদের কর্মক্ষমতা , হারাবো আমাদের দক্ষতা । তখন আমাদের অর্জন বলতে থাকবে আমাদের প্রজন্ম , যাদের জন্য আমাদের সারাজীবনের পুরোটাই ব্যয় করতে হয়েছে। আমাদের প্রজন্ম কে আমরা কি শিখাতে পেরেছি , সেটা বুঝতে পারবো তখন , যখন আমরা আমাদের জীবনী শক্তির নিঃশেষ করে ফেলবো। আমরা যদি তাদের ভালো শিক্ষা এবং দায়িত্ত্বের সাথে বড় করে তুলতে পারি , তাহলে আমাদের শেষ জীবন নিয়ে আমাদের চিন্তিত থাকতে হবে না। আর যদি শিশুদের আমরা সঠিক ভাবে পরিচর্চা করে বড় না করতে পারি , তাদের পৃথিবীটাকে যদি আমরা সাজিয়ে না দিতে পারি , তাহলে শেষ বয়সে যখন আমাকে বা আপনাকে বৃদ্ধাশ্রমে কিংবা সকলের অবহেলার পাত্র হয়ে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করতে হবে , তখন আপসুচ করে লাভ হবে না।

কে হবেন শিশুর শিক্ষক , যে তৈরী করে দিবে আগামীর পৃথিবী ?

কে শিখাবে আজকের শিশুকে ? কে তৈরী করবে আগামীর পৃথিবীকে ? প্রশ্ন গুলো মনের মাঝে উকি মারে। যদি উত্তর খুজি , তাহলে কি এমন ভাবনা আসলে কি খুব অবাক হবেন? বাড়ির কাজের মেয়ে আপনার শিশুকে ছোট থেকে কোলে পিঠে করে মানুষ করছে , তাকে গোসল করাচ্ছে , খাইয়ে দিচ্ছে , স্কুলে নিয়ে যাওয়া-আসা করতেছে অথচ শেষ বয়সে যখন আপনি বিছানায় তখন দেখলেন , আপনার আদরের ছেলে – মেয়ে আপনার খোঁজ না নিয়ে , খোঁজ নিচ্ছে দেওয়ালের ওপিঠে অন্য এক বৃদ্ধার , সেও বিছানায়। তবে কেনো এমন হলো ? আপনি তার জন্মদাত্রী মা আর ওই মহিলার সাথে আপনার সন্তানের কোনো সম্পর্কই নাই , তাহলে কেনো আপনার সন্তান আপনার খোঁজ না নিয়ে , ওই মহিলার যত্নে নিজেকে ব্যস্ত রাখছে। ভেবেছেন কি এভাবে ? হ্যা, দেয়ালের ওপিঠের মহিলাটি একসময় আপনার বাড়ির কাজের মেয়ে ছিল , যে আপনার অনুপস্থিতে আপনার সন্তানের অবসরের সঙ্গী ছিল। আপনার সন্তানের মাথায় এটাই গেথে গেছে , যা সে ছোট বেলা থেকে দেখে এসেছে । এখন সেই সন্তান যদি আপনাকে বৃদ্ধাশ্রমেও রেখে আসে , তখন আপনার কি করার থাকবে ? দোষ টা কার হবে ? আপনার নাকি আপনার সন্তানের ? আমি বলব আপনার , কারন আপনি আপনার সন্তানের ছোটবেলাটাকে সাজিয়ে দিতে পারেন নি , তাকে বুঝাতে পারেনি , আপনি তার বাবা-মা। তাকে এটা বুঝাতে পারেননি যে , বাবা আমরাও একদিন বৃদ্ধ হব , তখন আমাদের একমাত্র ভরসা হবে তুমি।

শিশুরা বাড়ুক উচ্ছ্বাস ,আনন্দ আর হই হুল্লাড়ে

আমি সেটাই বলতে চাচ্ছি , যা আসলে আমাদের করার দরকার অনেক আগেই। একটা শিশুর প্রাথমিক ও প্রধান শিক্ষক এবং একমাত্র অভিভাবক হবে তার বাবা-মা। শিশুদের ছোট বেলাটা যদি তাদের অভিভাবক সাজিয়ে না দিতে পারে , তাহলে তাদের শিশুরাই তাদের বাবা-মা কে জীবনের শেষ লগ্নে এসে অবহেলা করবে। শিশুদের পাওয়া অধিকার যদি তারা তাদের ছোট্টবেলায় পায় , তাহলে আপনার বৃদ্ধ বয়সে আপনি আপনার অধিকার পাবেন। এমনটা কখনোই হবে না, অন্য ক্ষেতে ফসল মাড়িয়ে নিজের বলে দাবি করা।

আপনি কোথায় ভূল করছেন?

প্রথমেই বলেছি , শিশুরা তাই শিখে যা সে দেখে। আর এখানেই ভুলটা করে বসে অনেক অভিভাবক। জীবন গঠনের দোহায় দিয়ে তারা ব্যস্ত থাকে কর্ম জীবনে আর তার সন্তানেরা বেড়ে উঠে কাজের লোকের দেখাশোনায় অথবা একটু বড় হলেই অনেক শিশু একা একাই বেড়ে উঠে চার দেওয়ালের মাঝে । সারাদিন তার খোঁজ নেওয়ার মত থাকে না কেউ। অথচ তার সময় কাটানোর জন্য রয়েছে ভিডিও গেমস এর ব্যবস্থা , রয়েছে টিভি-কম্পিউটার সহ অসংখ্য খেলা ধুলার উপকরণ কিন্তু নাই শুধু তারা বাবা-মা কারন তারা উভয় ই ব্যস্ত তাদের কাজ নিয়ে। বাবা অথবা মা অন্তত একজনের ফ্রী থাকা উচিত তার সন্তানের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ তৈরী জন্য। তবে গবেষনা বলে , একটা শিশুর সুন্দর ভবিষ্যৎ এর সর্বোচ্চ ভুমিকা থাকে মায়ের। আর আমরা অভিভাবকরা এই ভুলটাই করে বসি ,যার খেসারত দিতে হয় শিশুটা যখন বড় হয়ে “ব্যক্তিতে” পরিণত হয় তখন।

শিশু-প্রযুক্তি-আপনি

আপনার শিশু বড় হয়ে উঠছে কিন্তু আপনি তার কাছে থাকছেন না। আপনার সন্তানের খোঁজ আপনি নিতে পারছেন না , সেটার সমাধান বের করে আপনি আপনার শিশু সন্তানের হাতে তুলে দিচ্ছেন আধুনিক প্রযুক্তির মুঠোফোন। এখন আপনি আপনার সন্তানের সারাদিনের খোঁজ মোবাইল করে সহজেই নিয়ে নিচ্ছেন কিন্তু এটা বুঝতেছেন না , আপনার সন্তান অল্প বয়সেই মোবাইলের প্রতি আসক্ত হয়ে যাচ্ছে। এই আসক্তি তার মূল্যবোধ কে বাজেভাবে প্রভাবিত করে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত।যা আপনার সন্তানকে প্রযুক্তির বাজে ব্যবহারের দিকেও আকৃষ্ট করছে। মনে রাখবেন , যে শিশুর মূল্যবোধ একবার নষ্ট হয়ে যাবে , সেই শিশুকে পূনরায় সঠিক পথে আনতে ঘাম ছুটে যাবে

শিশু কি চায় ?

আপনার শিশু সন্তানের চাওয়া আপনাকেই বুঝতে হবে। আপনি কি মনে করেন আপনার সন্তানের ৬ টি মৌলিক চাহিদা পূরন করতে পারলেই , আপনার সন্তান পৃথিবীর সেরা সন্তান হয়ে যাবে। আপনি কি জানেন , বর্তমান সময়ে আমরা এমন একটা অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছি যে , ৬ টি মৌলিক চাহিদা প্রায় সবাই পেয়ে যাচ্ছে কিন্তু দেশের ভবিষ্যৎ হয়ে তৈরী হচ্ছে কয়জন ? শিক্ষা , স্বাস্থ্য , খাদ্য , বাসস্থান , বস্ত্র এবং সুস্থ বিনোদন এর প্রতিটাই শিশুরা পেয়ে যাচ্ছে কিন্তু এটুকুতেই কি আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম কে বের করে আনতে পারবো ? না , কখনোই সম্ভব না । একটা শিশু সর্বপ্রথম তার বাবা-মা কে কাছে চায় , সে চায় তার পৃথিবী জুড়ে থাকুক তার বাবা-মায়ের ভালোবাসা। সে চায় ,তার সারাদিনের সঙ্গী থাকুক তার বাবা-মা। কিন্তু আপনি কি সেটা করছেন ? যদি না করে থাকেন , তাহলে কিভাবে ভাবছেন যে আপনার সন্তান আপনার বৃদ্ধ বয়সের লাঠি হয়ে আপনাকে দাড়াতে সাহায্য করবে।
আপনার ভালোর জন্যে হলেও আপনার সন্তানের জীবনে আপনাদের কে জড়িয়ে রাখুন , যখন আপনার সন্তান আপনার প্রতি দায়িত্ত্বশীল হবে তখন সে অন্যদের প্রতিও মহানুভাব স্বভাবের হবে। আর এভাবেই আপনার সন্তান দেশের সম্পদ হয়ে নিজেকে প্রতিষ্টিত করবে।

শিশুরা চায় , আপনি ময় হোক তার পৃথিবী


শিশুর সুন্দর জীবন , পৃথিবী হোক নিরাপদ

একটা শিশু শুধু তার বাবা-মায়ের সেবার জন্যেই বেড়ে উঠে না বরং যে শিশু দায়িত্ত্বের সাথে বড় হয় এবং নিজেকে দায়িত্ত্বশীলতার সাথে প্রতিষ্ঠিত করে , সে শিশুর প্রতি অধিকার সমাজ এবং দেশেরও আছে। কারন সমাজ বা দেশের বিপদে সেই শিশু একদিন নিজেকে বিলিয়ে দিবে। তাই আমাদের উচিত প্রতিটা শিশুর জীবন কে সুন্দর ভাবে গড়ে দেওয়া ,যেন সে বড় হয়ে দেশের সম্পদ হতে পারে এবং সে নিজেই নিজেকে ছাড়িয়ে যেতে পারে । আর যখন এমনটা হবে , তখন শুধু একটি নির্দিষ্ট দেশ নয় বরং পৃথিবী হয়ে উঠবে অসম্ভব সুন্দর একটি গ্রহ। তাই আসুন , নিজেদের যতই ব্যস্ত রাখি না কেনো, সেটা যেন নিজের সন্তানের জন্য বিপদ না হয়ে দাঁড়ায়। কারন খারাপ পথে বেড়ে উঠা একটি শিশু শুধু পরিবার আর সমাজের জন্যেই কাল হয়ে দাঁড়ায় না , বরং দেশ ও জাতির জন্যেও ভয়ংকর হয়ে দাঁড়ায়।

একজন খারাপ মানুষ ১০ জন ভালো মানুষের ক্ষতি করে ফেলার সামর্থ্য রাখে কিন্তু ১ জন ভালো মানুষ ১০ জন খারাপ মানুষকে সঠিক পথে নিয়ে আসতে পারে”। তাই চলুন

“আমার সন্তানকে আমি গড়ে তুলি , জাতিকে একজন ভালো মানুষ উপহার দিই”


Writter

Sharif Ahammed Bijoy

SEO Expert , RAMlessIT

3 thoughts on “সুন্দর হোক শিশুর জীবন”

  1. অসাধারন…
    আমরাই পারি শিশুদের ভবিষ্যত গড়তে..
    তাদের একটু একটু চাহিদা গুলো আমরা পথ-দেখানোর মাধ্যমে পাশে দাড়াতেই পারলেই.. এই কথাটা শতভাগ সুনিশ্চয়তা পাবে! যে,
    ★ আজকের শিশুরাই আগামীর ভবিষ্যত ★
    শুভকামনা অবধারিত..
    পাশে ছিলেন.. আছেন এবং অনন্তকাল থাকবেন এই আশাবাদ ব্যাক্ত করিলাম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *